নাফ ট্যুরিজম পার্ক: চালু হতে লাগবে ৫ বছর: বিনিয়োগ- ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা

খবরটি শেয়ার করুন বন্ধুদের সাথে

এনসিএন ডেস্কঃ  নাফ নদীর মোহনায় জালিয়ার দ্বীপে গড়ে উঠছে ট্যুরিজম পার্ক। এতে বিনিয়োগ করছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত কোম্পানি সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল। ইতিমধ্যে কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী ও থাই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিয়াটকাটি সোমিয়ুথর উপস্থিতিতে সম্প্রতি রাজধানীতে এ চুক্তি সই হয়। প্রাথমিকভাবে কোম্পানিটি ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা। পর্যটন কেন্দ্রটি উদ্বোধনে সময় লাগবে ৫ বছর। এটি হবে দেশের প্রথম দ্বীপভিত্তিক পর্যটনকেন্দ্র।
এ ব্যাপারে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশের জন্য বেজা জালিয়ার দ্বীপে ট্যুরিজম পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে বিনোদনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
এখানে ঝুলন্ত সেতুর চূড়ান্ত নকশার কাজ সমাপ্তির পর্যায়ে। তিনি বলেন, নাফ ট্যুরিজম পার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য গত বছর জার্মানিভিত্তিক ইউনিকনসালটকে দিয়ে সমীক্ষা করিয়েছিল বেজা। ওই সমীক্ষায় বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে কক্সবাজারে কমপক্ষে ২৫ লাখ পর্যটক ভ্রমণে যাবে। এর মধ্যে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ যাবে নাফে। বেজা সূত্র জানায়, পার্কটিতে বিভিন্ন রকম সুবিধা থাকবে।
এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ ও তিন তারকা হোটেল, জিমনেসিয়ামসহ অ্যাপার্টমেন্ট, রিসোর্ট, বিনোদন পার্ক, লাইভ এন্টারটেইনমেন্ট থিয়েটার ও মিউজিয়াম, মেগা শপিংমল, সিনেমা হল, বোলিং সেন্টার, ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁ, ওয়াটার স্পোর্টস বিচ, গলফ ক্লাব, কেব্?ল কার, নদী ভ্রমণ, মিউজিক্যাল ওয়াটার ফাউন্টেইন, মসজিদ, অফিস ভবন, পাওয়ার প্লান্টসহ অন্যান্য অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা স্থাপনের প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে বেজা। নাফ ট্যুরিজম পার্কে প্রায় ১২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে।
জানতে চাইলে বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান কাজী এম আমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশকে তুলে ধরতে অনেক দেশে রোড শো করা হয়েছে। আর সম্প্রতি তাতে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিদেশিরা বিনিয়োগের জন্য আসছে। চীন ও থাইল্যান্ডের বিনিয়োগকারীরা আসছে। আগামীতে আরও বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করেন তিনি।
জানা গেছে, জালিয়ার দ্বীপের আকার ২৭১ একর। এটি দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে ছিল। বেজার উদ্যোগে সেটি দখলমুক্ত করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়। দ্বীপটির এক পাশে মিয়ানমার, অপর পাশে বাংলাদেশের নেটং পাহাড়।
সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল দ্বীপটিকে একটি আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করবে। বেজা আরও জানায়, সিয়াম সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল থাইল্যান্ডে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল, রিসোর্ট, বিনোদনকেন্দ্র, স্পা, ফিটনেস সেন্টারসহ পর্যটনের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত। সিয়ামের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তারা বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে ফ্যান্টাসি কিংডম নির্মাণ, ফয়’স লেকে পর্যটন অবকাঠামো তৈরি এবং কক্সবাজারের রয়েল টিউলিপ সি পার্ল বিচ রিসোর্ট নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
কিয়াটকাটি সোমিয়ুথ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে নাফ ট্যুরিজম পার্কের উন্নয়ন কাজ শেষ হবে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ করা হবে দেড় বছরের মধ্যে। তিনি আশা করেন, বিশ্বমানের একটি অত্যাধুনিক বিনোদন পার্ক তিনি পর্যটকদের উপহার দিতে পারবেন।
এদিকে এ প্রকল্পসহ বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ১৪ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইন্সটিটিউট ফর ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইটিডি) নির্বাহী পরিচালক মানু সিথিপ্রাসাসানা।

Leave a Reply